জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার যথেষ্ট সুযোগ পায়— আবুল কাশেম বাবু
নারায়ণগঞ্জ বার্তা ডেস্কঃ “স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার যথেষ্ট সুযোগ পায়” বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বারদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম বাবু।
২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থনের মাধ্যমে সারাদেশে স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করা হবে—এমন আলোচনা বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই দলের নীতিনির্ধারকরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক প্রয়োজন এবং জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনা করেই নেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তবে একটি বিষয় বিনয়ের সঙ্গে বিবেচনার জন্য তুলে ধরতে চাই—স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার যথেষ্ট সুযোগ পায়। কারণ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মানুষ স্থানীয় পর্যায়সহ বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এখন তারা স্বাভাবিকভাবেই একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে। গত পনেরো বছরে মেম্বার থেকে শুরু করে স্হানীয় সকল স্তরের প্রতিনিধিকে মার্কা আর মনোনয়ন দিয়ে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি।
দলীয় সমর্থন যদি দেওয়া হয়ও, সেটি যেন স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—এ বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে একদিকে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় থাকবে, অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশারও যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
একই সঙ্গে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। তাই এমন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে ভালো হয়, যেখানে পারস্পরিক সমন্বয়, যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনাও কমবে।
দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি নির্বাচন আয়োজনের ব্যয়ও কম নয়। তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এমনভাবে পরিচালনা করা জরুরি, যাতে জনগণের অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকারের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়।
বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের সম্মানিত নীতিনির্ধারকরা সবদিক বিবেচনা করে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবেন, যা জনগণের প্রত্যাশা, দলের সাংগঠনিক স্বার্থ এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য সর্বোত্তম হবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস।
বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সেই আদর্শের আলোকে জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে গুরুত্ব দেওয়াই আমাদের দলের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।