প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ১১ই জুলাই পালিত হলো বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস।
এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য “Realizing the hopes and aspirations of young people – today and for the future”। যার বাংলা ভাবার্থ—’তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’।
পৃথিবীর ইতিহাস যদি ধর্মীয় দিক থেকে পর্যালোচনা করা হয়, তবে দেখা যাবে পৃথিবীর জনসংখ্যা শুরু হয়েছিল মাত্র দুইজন মানুষ দিয়ে।
হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং মা হাওয়া আলাইহিস সালাম।
ইসলাম, খ্রিষ্টান এবং ইহুদি ধর্ম-এ বিশ্বাসকে ধারণ করে।
এর পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে পৃথিবীতে দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার যে ধারাবাহিকতা, সেই ধারাবাহিকতায় আজ জনসংখ্যা ৮৩০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
জনসংখ্যা অভিশাপ নাকি নেয়ামত এ নিয়ে বেশ বিতর্ক আগেও ছিল এখনো আছে।
জনসংখ্যার মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত হচ্ছে নাকি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ বিষয়ে প্রথম যিনি তত্ত্ব নিয়ে আসেন তিনি হচ্ছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ম্যালথাস।
ইংরেজি অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাস তাঁর ১৭৯৮ সালের ‘এন এসে অন দ্য প্রিন্সিপল অব পপুলেশন’ (An Essay on the Principle of Population) গ্রন্থে জনসংখ্যা বিষয়ক তত্ত্বটি প্রকাশ করেন; তাঁর মতে, খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে এবং জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে।
অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন যদি প্রতিবছর এক- দুই-তিন-চার এমন হারে বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় ২-৪-৮-১৬ এভাবে।
এই তত্ত্বের পরপরই পৃথিবীতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের যে কর্মসূচি এটা পুরোদমে চালু হয়ে যায়।
এর পূর্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সেভাবে কেউ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেননি।
বর্তমানে পৃথিবীতে একটি চলমান বিতর্ক হচ্ছে, অধিক জনসংখ্যা সমস্যা নাকি সম্ভাবনা।
তৃতীয় বিশ্বের মতো দেশ গুলোতে, যেমন বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, ভারত, ও শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশগুলোতে জনসংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে।
এ সমস্ত দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত প্রবল।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) “জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২” এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা (জনসংখ্যার ঘনত্ব) ১,১১৯ জন।
এক দশক আগে, অর্থাৎ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এই ঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৭৬ জন।
রুয়ান্ডায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৫৫০+ জন।
নাইজেরিয়ার গড় জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৬৬ জন।
ভারতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৪৪০ জন।
শ্রীলঙ্কায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩৩০ জন এবং পাকিস্তানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩১৫ জন।
অন্যদিকে আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে তাকাই তাহলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার চাপ দেখতে পাবো-
যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ জন।
জাপান ৩২৪ জন।
দক্ষিণ কোরিয়া ৫০৯ জন।
জার্মানি ২৩৩ জন।
যুক্তরাজ্য ২৮৮ জন।
নেদারল্যান্ড ৪৮৬ জন।
সিঙ্গাপুর, মোনাকোর মতো নগর রাষ্ট্রের কথা বাদ দিলে কোথাও জনসংখ্যার এত বেশি ঘনত্ব নেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে।
এখন জনসংখ্যার চাপ কি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করতে বাধা সৃষ্টি করে?
বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে লক্ষ্য করলে এই সম্ভাবনার কথাই ফুটে উঠে।
এ সমস্ত দেশের বেকারত্ব, সামাজিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংকট, জীবনযাত্রার প্রত্যাশিত মান না থাকা, দারিদ্র্য, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ইত্যাদি নেতিবাচক দিকগুলো প্রবলভাবে ফুটে উঠে।
অন্যদিকে জনসংখ্যার চাপ কম থাকা উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে জীবনযাত্রার মান, বেকারত্ব, সামাজিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যায়।
উন্নত বিশ্ব জনসংখ্যাকে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসম্পদে পরিণত করা হয়।
তারা তাদের প্রতিটি নাগরিকের জীবনকে সমূহ মূল্যায়ন করে থাকে।
একজন নাগরিকের জীবন রক্ষা করতে বস্তুগত ক্ষতিকে তোয়াক্কা করে না।
তার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই কোথাও তাদের নাগরিক আটকে পড়ে আছে তার উদ্ধার তৎপরতা লক্ষ্য করলে।
তারা তাদের জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে অনুন্নত দেশ থেকে জনবল অভিবাসী হিসেবে গ্রহণ করে।
কিন্তু নিজেদের দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
অন্যদিকে জনসংখ্যার চাপে ভারাক্রান্ত দেশগুলোতে আমরা যে বিষয় প্রথমেই লক্ষ্য করি,
এখানে মানুষের জীবন সবচেয়ে কম দামি।
রাস্তা ঘাটে, বনে বাদাড়ে এখানে সেখানে, সামান্য কথাকাটাকাটি, কিংবা বারো হাজার মাইল দূরের বিশ্বকাপ, যেখানে তার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই, নিয়ে মানুষ মানুষকে খুন করতে দ্বিধাবোধ করে না।
এমনকি খাবারে মাংসের পরিমাণ কম বেশি নিয়েও লাশ পড়ে যায়।
এ সমস্ত দেশে জনসংখ্যা কখনোই জনসম্পদে পরিণত হয় না।
সরকারের সক্ষমতার অভাব, পরিকল্পনার ঘাটতি কিংবা আগ্রহ সমন্বিত অবহেলায় জনসংখ্যা বোঝায় পরিণত হয় দিন দিন।
শিক্ষিত বেকার নামের গ্লানিকর অভিজ্ঞতা এ সমস্ত দেশের বেকারদের অবস্থা করুণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা।
নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্র না পাওয়া কিংবা উদ্যোক্তা হতে নানান কারণে বাধার সম্মুখীন হয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া হয়ে যায় স্বপ্নের গন্তব্য।
কেউ সফল হয়, কেউবা ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে আবার দেশে ফিরে এখানেই কিছু করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়।
আপাত দৃষ্টিতে জনসংখ্যার বিশাল চাপ এই সমস্যার কারণ মনে হয়।
পাশাপাশি বেশি জনসংখ্যার কিছু সুফল লক্ষ্য করা যায়। অধিক কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে বিধায় দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।
বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
সস্তা শ্রমবাজারের কারণ উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হয় ফলে রপ্তানি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ে।
মানুষের মাঝে সামাজিক মেলবন্ধন থাকে।
পারস্পরিক দুঃখকষ্টের অভিজ্ঞতা থাকায় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর হিম্মত দেখা যায়।
অন্যদিকে উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, সেখানে জীবনযাত্রা মান উন্নত এবং আর্থিকভাবে নিরাপত্তা থাকায় কেউ কারো উপর নির্ভরশীল নয়।
ফলে একে অপরের সাথে মিশে জীবনযাপন করা কিংবা সন্তান জন্মদানকে অতিরিক্ত বোঝা মনে করা হয়।
এবং বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করলে সেখানে বিবাহ বিচ্ছেদের যে কঠিন আইন তা অনেককেই বিবাহ করতে নিরুৎসাহিত করে।
ফলে সেখানে ভিন্ন এক সংকট দেখা যাচ্ছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,
ইউরোপে ২০২৪ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ঋণাত্মক।
অর্থাৎ যতজন নতুন করে জন্মগ্রহণ করেছেন তারচেয়ে বেশি মৃত্যুবরণ করেছে।
জাপানে এই অবস্থা আরো করুণ।
সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সরকার নানাভাবে প্রেষণা দিচ্ছে, কিন্তু উন্নত জীবনমান রক্ষা করতে গিয়ে এত চাপ পড়ে যে সংসার করাকে অনেকেই বাড়তি ঝামেলা মনে করেন।
ফলে সেখানে গ্রামগুলো খালি হয়ে যাচ্ছে।
বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
মানুষ একা ফ্ল্যাটে মরে পড়ে রয়েছে, ছয় মাস, এক বছর কোনো খবর নেই।
যান্ত্রিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এআই এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের হার বাড়ছে। মানুষের অংশগ্রহণ কমছে।
সামাজিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ধারা নেতিবাচক।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করলে আমরা জনসংখ্যা বৃদ্ধির এবং সীমিত জনসংখ্যার দুটো দিক দেখতে পাই।
জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে এককভাবে আমরা অভিশাপ কিংবা নেয়ামত কোনোটাই বলতে পারবো না।
যথাযথ পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত করা সম্ভব।
এর প্রমাণ আমরা দেখতে পাই চীনের দিকে লক্ষ্য করলে।
১৪১ কোটি জনসংখ্যার বিশাল দেশ হয়েও চীন আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রাথমিক কী কী পদক্ষেপ চীন গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে তারা বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করেছে এবিষয়ে আমাদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
চীন প্রথমেই কারিগরি প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
তারা সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ করে তার বাস্তবায়ন করেছে।
তারা জেলায় জেলায়, উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিবর্তে সেগুলো প্রাথমিকভাবে বন্ধ করে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।
ফলে তারা বেকারত্বের হাবগুলো বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।
পরবর্তী যখন কারিগরি প্রশিক্ষণ একটি পর্যায় পৌঁছেছে, তখন আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চালু করে যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে পরিমার্জন এবং পরিবর্ধন করেছে।
কিন্তু বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে তাকালে আমরা দেখতে পাই, এখানে কারিগরি প্রশিক্ষণকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না কিংবা সক্ষমতা নেই।
অথচ বিশ্ববিদ্যালয়, যেগুলো ব্যাপকভাবে শিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানা হিসেবে বিবেচিত হয়, জেলায় জেলায় এমনকি উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া বিস্তৃত করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
অথচ প্রয়োজন ছিল কারিগরি শিক্ষার কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করা এবং এটাকে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া, যাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠে।
বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।
যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং অপ্রতুল।
উদাহরণ হিসেবে, নারায়ণগঞ্জ জেলার কথা ধর যাক। ২০২২ সালের আদমশুমারি ও গৃহগণনা রিপোর্ট অনুযায়ী এই জেলার জনসংখ্যা ৩৯ লক্ষ একশত আটত্রিশ জন।
সেখানে জেলায় একটি মাত্র যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে প্রতি ব্যাচে মাত্র ৪০ জনকে ড্রাইভিং শেখানো হবে অথচ আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচশত জন।
এখানে প্রতিটি উপজেলায় যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল।
যা বর্তমানে নেই।
সুতরাং এখানে পরিকল্পনার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এভাবে অনুন্নত দেশগুলোতে তাদের জনসংখ্যাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ আর ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারার কারণে জনসম্পদ পরিণত হচ্ছে জনঅভিশাপে।
এজন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার যেমন দায় এড়াতে পারে না, তেমনি জনগণের সচেতনতার মারাত্মক অভাব সমানভাবে দায়ী।
শেষ করবো প্রফেসর ম্যালথাসের গবেষণা রিপোর্ট দিয়ে।
তিন বলেছেন জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায় তেমনি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় না।
তাই মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
তার এই থিসিস ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
পৃথিবীতে নিছক খাদ্যের অভাবে কখনোই মানুষ যারা যায়নি।
মানুষ অভাবের চেয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ, সম্পদ পুঞ্জীভূত, সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব বা কৃত্রিম সংকট ইত্যাদি কারণে মানুষের মৃত্যু বেশি ঘটেছে।
সাম্প্রতিক গাজা, কিংবা ইউক্রেনের মানবিক সংকটের দিকে লক্ষ্য করুন, সেখানে খাদ্যের অভাবে নয় বরং মানুষের লোভ এবং প্রতি হিংসার কারণেই মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে বেশি।
আফ্রিকার দিকেই লক্ষ্য করুন, সুদান উগান্ডা, মালি ইত্যাদি দেশ তেল, স্বর্ণ ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর।
সেখানকার মানুষকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি দমিয়ে রাখতে কৃত্রিম ভাবে খাদ্য সংকট তৈরি করে তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে।
এটাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে এককভাবে দায়ী করা যাবে না।
১৯৪৩, বাংলা ১৩৫০ যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছে, সেখানে কৃত্রিমভাবে খাদ্যকে ম্যানিপুলেট করা হয়েছে যুদ্ধের কারণে।
ফলাফল বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
১৯৪৩ সালের বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে (যা ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত) আনুমানিক ২১ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ (২.১ – ৩ মিলিয়ন) মানুষ মারা যান। তবে কিছু ঐতিহাসিক এবং গবেষকের মতে, দুর্ভিক্ষ এবং এর পরবর্তী মহামারিগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে প্রাণহানির এই সংখ্যা ৩৫ থেকে ৩৮ লক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এটি মূলত একটি মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের যুদ্ধকালীন নীতি, চাল ও নৌকা বাজেয়াপ্তকরণ এবং খাদ্য মজুতকরণের ফলে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।
সুতরাং জনসচেতনতা এবং সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ জনসংখ্যা সমস্যাকে সম্ভাবনায় পরিণত করতে পারে।
তাই এককভাবে জনসংখ্যা অভিশাপ নাকি নেয়ামত তা বলা যাবে না।
যথাযথ পরিকল্পনা এবং বাস্তব পদক্ষেপের অভাবে তা কখনো অভিশাপ হতে পারে অন্যদিকে আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে জনসংখ্যাকে নেয়ামতে পরিণত করা সম্ভব।
লেখক
মোঃ সাখাওয়াত হোসেন
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।