সোনারগাঁ সংবাদদাতাঃ আমি একজন রাজনৈতিক সচেতন সাধারণ নাগরিক। ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি বলে মন্তব্য করেছেন সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কাশেম বাবু।
তিনি ২১ মে (বৃহস্পতিবার) তার ভেরিফাইড ফেসবুকের এক পোস্টে বলেন, আমি একজন রাজনৈতিক সচেতন সাধারণ নাগরিক। ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি বলেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে (ছাত্রদল,যুবদল) করে এখন বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তবে নেতা হতে পারিনি। আমি কখনোই অন্য কোনো দলের কর্মী সমর্থকদের অসম্মান বা ছোট করেও দেখি না।
বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় – তাই সাহস করে দল ও সমাজের কিছু অসংগতি লিখে মনের যন্ত্রণা দূর করতে চেষ্টা করি। অতীতে সে সক্ষমতাও ছিলো না। তাই কিছু লিখতে পারিনি। সব সময়ই ভয়ে থাকতাম কোন কথার কারনে আবার একটি গাইবি মামলার আসামি হয়ে যাই। এমনিতেই চারটি মামলায় কোর্টে হাজিরা দিতে হয়। সে জন্য যতটুকু পেরেছি নিজেকে গুটিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছি।
আমার একান্ত চাওয়া দল হিসেবে বিএনপি সঠিক পথে চলুক এবং সরকার সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করুক।
আমি মাঝেমধ্যে কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই না।
গত কালকে মিরপুরে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে গিয়ে -বস্তি উচ্ছেদ করতে গেলে – সেখানকার লোকজন উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে এবং উদ্ধার কর্মীদের তাড়িয়ে দেয়।
সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে আমার প্রশ্ন ঈদের এক সপ্তাহ আগে এই সম্পদ উদ্ধারে না গেলে এমন কি ক্ষতি হতো ! এতদিন আপনারা কেন ঘুমিয়ে ছিলেন ? আর উদ্ধারের আগে সকলকে কেন সচেতন করতে পারেননি ? ঈদের কয়েকদিন আগে এই মানুষগুলোইবা কোথায় যাবে সে চিন্তা কি একবার করেছেন !
জনরোষে উদ্ধারের পরিবর্তে পালিয়ে আসতে হলো। এতে কি সরকার বা প্রশাসনের কোনো উপকার হলো !
তাহলে কার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। অবিবেচকের মতো কে এমন সিদ্ধান্ত দিলো ?
দ্বিতীয় আরেকটি প্রশ্ন
ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ঈদের কয়েকদিন আগে এমনিতেই যানজট লেগে আছে। দুদিন আগে লাঙ্গলবন্দ সেতু সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপদের ইঞ্জিনিয়ার সাহেবরা এতদিন কোথায় ছিলেন ? ঈদের কয়েকদিন আগে কেন আপনাদের ঘুম ভেঙেছে ?
তৃতীয় প্রশ্ন
চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী কুরবানির হাট সরকারি ভাবেই বরাদ্দ দেয়া হয়। সকলেই জানেন মহাসড়কের পাশে হাট বসানোর কারনে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কষ্ট হয়। এটা জানার পরও কেন সরকের পাশে না দিয়ে অন্য কোনো স্থানে দেয়া যাবে না।
আমরা সব ক্ষেত্রেই জেনেশুনে বিষ পান করতে পছন্দ করি। তাই নয় কি ?
আমার মনে এমন অনেক প্রশ্ন আসে কিন্তু এর কোনো উত্তর খুঁজে পাই না।
দিনে দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। যদিও অধিকাংশই সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়। এগুলো সঠিক পথে নিয়ে আসতে হলে প্রশাসনের আরো নজরদারি বাড়াতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে পারলে এবং নৈতিক শিক্ষা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। তবেই “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান কার্যকর হবে ইনশাআল্লাহ। এবং দুষ্টদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করে ব্যাপক প্রচার করতে হবে।যাতে অন্যরা সতর্ক হয়।
আজকে একটি ভিডিওতে দেখলাম মাদকাসক্ত বাবা তার দুই বছরের শিশুকে বিছানায় ফেলে কিল ঘুষি আর লাথি মারতে। এই অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে সবার আগে মাদক ও জুয়া নির্মূল করা জরুরি ‼️। আর সব সময়ই মাদকের পিছনে থাকে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব। এদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নিতে না পারলে কখনোই বাংলাদেশে পরিবর্তন হবে না। খুব আশাবাদী ছিলাম এতবড় একটি আন্দোলনের পরে প্রশাসন নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হচ্ছে যে লাউ সেই কদু। সরকারি প্রতিটি দপ্তরের একই অবস্থা। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় মাদকের সাথে কারা জড়িত তা পুলিশ প্রশাসনের সকলেই জানে। আর জানা না থাকলেও জেনে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন কোনো বিষয় নয়।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,দেশটা একেবারে পচে যাওয়ার আগেই কঠোর হাতে দমন করার অনুরোধ করছি। আজ বারবার মনে পড়ছে দেশ নেত্রীর কথা। তিনি কথা কম বলতেন কিন্তু প্রয়োজনে কঠোর হতে দ্বিধা করতেন না। সময়ের প্রয়োজনে দেশের স্বার্থে তিনি অপারেশন ক্লিন হার্ট করতেও পিছপা হননি।