চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায় আজকে যে রাজাধিরাজ কাল সে ভিক্ষা চায়- আবুল কাশেম বাবু
নারায়ণগঞ্জ বার্তা ডেস্কঃ চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায় আজকে যে রাজাধিরাজ কাল সে ভিক্ষা চায় বলে মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বারদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কাশেম বাবু।
১৯ জুন (শুক্রবার) সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেন, ধর্মীয় দৃষ্টিতে যিনি ছালাম দেন আর যিনি ছালামের উত্তর দেন দুটিরই অর্থ এক হলেও – যিনি আগে ছালাম দিলেন তিনি সওয়াব বেশি পাবেন। সেজন্যই একজন মুসলিম সব সময়ই ছালাম আগে দিতে চেষ্টা করেন।
প্রতিটি ভালো কাজ যিনি আগে শুরু করেন তিনি সওয়াব বেশি পাবেন। এবং যতদিন কাজটি সমাজে চলমান থাকবে ততদিন পর্যন্ত তিনি সওয়াব পেতে থাকবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনার অতীতের সমস্ত দুঃখ কষ্ট ভুলে প্রতিহিংসা পরিহার করে নতুন ধারার রাজনীতি করতে চাচ্ছেন কিন্তু স্হানীয় পর্যায়ের কর্মীরা কি সেটা বুঝতে পারছেন? আমি এই দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে মন থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই চিন্তাকে সমর্থন করি। যদিও প্রতিপক্ষ লোকেরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে কিনা – জানি না।দেশে কিছু মানুষ থাকে তারা মনে করে – পারলে তো প্রতিশোধ নেবে।শহীদ জিয়ার বিচারই করে নাই। তেমনি প্রতিটি সমাজে এমন কিছু লোক আছে তাদেরকে সওয়াবের আশায় আগে ছালাম দিলেও মনে করে – মানুষ তাকে ভয় পায়,সেজন্য ছালাম দিয়েছে।
এমন অনেক কিছু নিয়েই তো বাংলাদেশের সমাজ।
ক্ষমা করা – মহত্বের লক্ষণ। তাই বিনা কারণে গত পনেরো বছরে আমাকে পাঁচটি গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে এবং ছোট ভাইকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যারা জেলে দিয়েছে-তাদের পরিচয় জানার পরেও তাদেরকে মন থেকে অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি।সেটা যদি তারা দুর্বলতা মনে করে – তাতেও কোনো সমস্যা নেই।
গতকাল আমাদের বারদী বাজারের চাউল ব্যবসায়ী আলহাজ্জ আবুল হোসেনকে – কে বা কারা পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। পুলিশতো ইচ্ছে করে আসেনি। আবুল হোসেন কোনো মামলার আসামীও না। আমার জানা মতে আবুল হোসেন কখনো কারো সাথে ঝগড়া বা মারামারি করেছে বলে মনে পড়ে না। আর রাজনীতিতেও তার তেমন কোনো পরিচয় আছে বলেও আমি মনে করি না। সে রাজনীতি যেটুকু করে -সেটা নামে মাত্র। ভবিষ্যতেও তার পক্ষে রাজনীতিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখার মতো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। আর এই পর্যায়ের লোকদের মামলা দিয়ে জেলে নিতে হলে প্রতি ইউনিয়নে পাঁচ সাত হাজার লোককে জেলে দেয়া দরকার। তাহলে তার মতো একজন নিরীহ প্রকৃতির মানুষকে কেনো এভাবে হয়রানিমূলক মামলা দিতে হলো ? এর কোনো উত্তর আমি খুঁজে পাচ্ছি না। এতে দল হিসেবে বিএনপি কি রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হলো ? এগুলো নিতি নির্ধারকদের ভেবে দেখা দরকার। তাহলে কে লাভবান হলো ? আসলে এগুলো বিএনপির নেতা পর্যায়ের কারো সিদ্ধান্ত হতে পারে না। স্হানীয় পর্যায়ে যারা এসব করছে তাদেরতো বিএনপির লাভ-লসের চিন্তা করবার সময় নাই। তাদের উদ্দেশ্য একটাই নিজের কিভাবে উপকার হবে !
প্রধানমন্ত্রী উনার মৃত মা বাবার সম্মানে কোনো নাম দিতে না চাইলেও , সুযোগ থাকলে অন্যরা নিজের নাতি পুঁতির নামও বাদ দিতে চান না। এটাই বাস্তবতা। অতীতেও এমনটাই দেখেছি। আমাদের গ্রামের আলহাজ্ব আবুল হোসেন( আবু )কাকার মতো একজন বয়স্ক অসুস্থ মানুষকে জেলে পাঠাতে একটুও চিন্তা করতে হয়নি। সেটাও স্হানীয় বিবেকহীন লীগের নেতা নামদারি লোকদের কাজ ছিল। এটা কেমন রাজনীতি ?
এবারও একই নামের আবুল হোসেনকে জেলে পাঠানো হলো।স্থানীয় অনেকের সাথে আলোচনা করে আমি এর কোনো সদুত্তর খুঁজে পাইনি।
এজন্যই সকল রাজনৈতিক দলের উচিত স্থানীয় পর্যায়ে বিবেকবান ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়ে – এলাকার মানুষের কল্যাণকর রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা।লুটেরা রাজনীতি পরিহার করা।
আর জনগণেরও উচিত ভালো লোকদের পাশে থেকে সহযোগিতা করা। নইলে এভাবেই চলতে থাকবে।রাজনীতির এই ধারণা পরিবর্তন করার জন্যই তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসা দূর করতে বলছেন। কাউকে না কাউকে ভালো কাজের সূচনা করতে হবে। একজন নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষকে বিপদে ফেলা -এটা কখনোই রাজনীতি হতে পারে না।এখন অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ফেসবুকে পোস্ট ,কমেন্ট,লাইক দিয়ে অনেক রাজনীতি করে। আবুল হোসেনতো তাও করেনা।
যদিও আগে বিরোধী দলের কেউ সমালোচনা করবে দূরে থাক- সরকারি নিজ দলের কর্মীরাও তাদের দলের সমালোচনা করে কিছু লিখতে পারতো না। ফেসবুকে পোস্ট দিবে দূরে থাক একটি কমেন্ট করলেও পরের দিন নতুন মামলায় পরতো। এখন সরকার ও বিরোধী দলের অনেকেই সমালোচনা করতে পারে আর এটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায়।
এটাই হচ্ছে সত্যিকারের গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
মানুষ স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশ করবে।
আমার এই লেখা পড়ে অনেকেই সুশিল কুশিল আরো সুন্দর সুন্দর বকা দিয়ে হয়তো বলবেন – আগেতো এর চেয়ে বেশি খারাপ হতো। অনেকেই জেল জুলুমের শিকার হয়েছে।এর সহজ উত্তর একটাই হওয়া উচিত। সেজন্যই মসজিদের ইমাম সহ সকলে পালিয়ে গেছে। আল্লাহ ছাড় দেন কিন্তু একেবারে ছেড়ে দেন না।আজকে যারা আবুল হোসেনের মতো নিরীহ মানুষকে অন্যায় ভাবে কষ্ট দিবেন -তাদের বুঝতে হবে নিয়তি আপনাকেও ক্ষমা করবে না। ( কে করেছে তা আমার জানা নাই) রাজনিতী কি আগের মতো একই রকম হওয়া উচিত – নাকি ভালো কাজের মাধ্যমে – মানুষের কল্যাণে কাজ করে সকলের মনজয় করা উচিত।
শহীদ জিয়াকে এখনো মানুষ মনে করে তার ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ। প্রতিটি এলাকার জনগন কিন্তু তাদের নিজের চোখে যা দেখছে – সেটাই মনে রেখে পরবর্তী নির্বাচনে সিদ্ধান্তের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছে। সময় থাকতে সকল পক্ষের উচিত গঠনমূলক রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগিতা করা। যে আগে ভালো কাজের উদাহরণ সৃষ্টি করবে সেই দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম হবে। আল্লাহ আজকের জুমার দিনে সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন আমিন।