সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন জামায়াত প্রার্থী ড. আসগার আলী
নারায়ণগঞ্জ বার্তা ডেস্কঃ আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সোনারগাঁবাসীর দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ড. আসগার আলী।
তিনি সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত একটি উঠোন বৈঠকে বলেন, আমি আমার জন্য রাজনীতি করিনা আমি ইসলামের জন্য ইসলামের রাজনীতি করি। আমরা শাসক হতে চাই না , আমরা জনগণের সেবক হবো। জনগণের অর্থ চুরি করব না। জনগণকে সুশাসন ও সুন্দর সমাজ উপহার দিব। বড় মিস্ত্রির নাম হচ্ছে রাজমিস্ত্রি, বড় হাসটার নাম হচ্ছে রাজহাঁস, বড় পথের নাম হচ্ছে রাজপথ, বড় নীতির নাম হচ্ছে রাজনীতি আর আল্লাহর রাসূলের চাইতে বড় নীতি, আদর্শিক নীতি, কল্যাণের নীতি আর কারো নাই। আমরাও আল্লাহর রাসুলের নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজনীতি করি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাকে সোনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আমি আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া ও সমর্থন কামনা করি।
কে এই জামায়াত প্রার্থী ড. আসগার আলী?
সোনারগাঁয়ের অন্যতম সুবিধাবঞ্চিত এলাকা হিসেবে পরিচিত বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। বর্তমানে তিনি সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর এলাকায় নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছেন।
সমৃদ্ধ শিক্ষা জীবন:
তিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে এম এ পাশ করেন। এরপর প্রথম শ্রেনীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স অব এডুকেশন সম্পন্ন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি কমপ্লিট করেন ওবং AWU, USA থেকে
পিএইচডি (গবেষণা) সম্পন্ন করেন।
বর্ণিল পেশা জীবন:
একজন আলোকিত শিক্ষাগুরু হিসেবে দীর্ঘ ২৭ বছর দবীরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা, দক্ষতা ও সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেছেন।প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিরল সম্মান ও জনভালোবাসা অর্জন করে অবসর গ্রহণ করেন। সরকার কর্তৃক“সোনারগাঁ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক” সম্মাননায় ভূষিত। বর্তমানে তিনি ফাতেমা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক হিসেবে অধ্যপনা করছেন।
ঘটনাবহুল রাজনেতিক জীবন:
ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দানের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ছাত্রজীবন সমাপ্তির পরে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে সক্রিয় কর্মী হিসেবে যোগ দান করে অদ্যবদি তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি অফিস সেক্রেটারি বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের অফিস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হিসেবে ও দায়িত্ব পালন করছেন এবং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের একজন আজীবন ভোটার সদস্য।
সুচিন্তাপ্রসুত গবেষণা ও প্রকাশনা:
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদানের লক্ষ্যে তিনি বহু গ্রন্থের রচনা ও সম্পাদনা করেন।তিনি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখক ও মাসিক পত্রিকার নিউজ এডিটর এবং সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নৈতিকতা সম্পন্ন সাংবাদিকতায় অবদান রেখে চলেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি বিতর্ক, বক্তৃতা, ক্রীড়া, সাঁতার ও দৌড় প্রতিযোগিতায় অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেন।
মানবসেবা ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম:
তিনি মানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ একজন প্রকৃত মানবপ্রেমী। যিনি বহু মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল-কলেজ ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
গরিব, অসহায়, এতিম, বিধবা ও রোগীদের সহযোগিতায় তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি ন্যায় ও আদর্শের আপোষহীন কণ্ঠস্বর। সোনারগাঁর রাজনীতিতে তিনি একজন সুপরিচিত আদর্শিক নেতা।
জুলুম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন রাজপথের সাহসী সৈনিক। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বহুবার কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েও ন্যায়ের সংগ্রাম থেকে পিছপা হননি।
সোনারগাঁবাসীর প্রতি অঙ্গীকার :
সোনারগাঁয়ের রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট ও অবকাঠামগত উন্নয়নের মাধ্যমে অপশাসন ও জুলুম মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করে একটি উন্নত, মানবিক ও নিরাপদ সোনারগাঁ গঠন করাই তার অঙ্গীকার বলে ব্যক্ত করেন। সোনারগাঁয়ে জীবনমুখী ও নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন এর মাধ্যমে সোনারগায়ের সুনাম ও মান- মর্যাদাকে উন্নত শিখরে নিয়ে যাওয়া এবং জনগণের সেবার মাধ্যমে রাজনীতির অঙ্গীকার পূর্ণ করাই হবে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে একটি মানবিক ও উন্নত সোনারগাঁও গঠন করতে চান বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।