সোনারগাঁয়ে তিতাসের অভিযান, ৪ চুন কারখানার ১০টি ভাট্টি উচ্ছেদ
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে পরিচালিত চারটি চুন কারখানার ১০টি ভাট্টি উচ্ছেদ করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার সোনাখালী, পিরোজপুর ও প্রতাপেরচর এলাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘণ্টায় ২০ হাজার ঘনফুট গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। এতে দৈনিক আনুমানিক ২ লাখ ৭ হাজার ৩০০ টাকার গ্যাস সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তিতাস গ্যাসের জোনাল বিক্রয় অফিস-মেঘনাঘাটের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চারটি স্থানের সাতটি পয়েন্টে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সোনাখালী এলাকায় একটি অবৈধ চুন কারখানার দুটি ভাট্টি উচ্ছেদ করা হয়। সেখানে এক্সক্যাভেটর প্রবেশ করতে না পারায় শ্রমিকদের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি ভাট্টি ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় চুন বিনষ্ট করা এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করা হয়।
পিরোজপুর এলাকায় মুজাফফর ফাউন্ডেশন ও একটি মাদ্রাসার সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত একটি অবৈধ চুন কারখানার তিনটি ভাট্টি এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়। অন্যদিকে, প্রতাপেরচর এলাকায় আব্দুল মোনেম সুগার মিলের বিপরীতে অবস্থিত একটি চুন কারখানার তিনটি ভাট্টিও এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে উচ্ছেদ করা হয়।
এ ছাড়া প্রতাপেরচর এলাকায় সোনারগাঁও সল্টের বিপরীতে অবস্থিত আরেকটি অবৈধ চুন কারখানার দুটি ভাট্টি শ্রমিকদের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি ভেঙে ফেলা হয়। ওই স্থানে এক্সক্যাভেটর প্রবেশ করতে না পারায় এ পদ্ধতিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
অভিযানকালে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারে সংযুক্ত স্থাপনাগুলোর গ্যাস সংযোগের উৎস পয়েন্ট থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কিলিং ও ক্যাপিং করা হয়। এ সময় ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের ২০ ফুট এমএস পাইপ এবং ১৪টি এয়ার মিক্স বার্নার জব্দ করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৭৫০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ ঘটনাস্থলেই কেটে বিনষ্ট করা হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চারটি চুন কারখানার ১০টি ভাট্টির প্রতিটির ঘণ্টাপ্রতি গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ আনুমানিক ২ হাজার ঘনফুট হিসাবে মোট ঘণ্টায় ২০ হাজার ঘনফুট গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। এতে দৈনিক আনুমানিক ২ লাখ ৭ হাজার ৩০০ টাকার গ্যাস সাশ্রয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অভিযানে কোনো জরিমানা করা হয়নি এবং কোনো মামলা বা এফআইআরও করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর মালিকদের ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কারাদণ্ড বা জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযান-সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির জোনাল বিক্রয় অফিস-মেঘনাঘাটের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।